অতঃপর জামিনে মুক্তি পেয়ে জেল থেকে বের হোলেন চিত্রনায়িকা পরিমনি। গাড়ির স্কাইরুফ খুলে বের করা তার উঁচু মাথায় সাদা পাগড়ি আর চোখ ছিলো কালো সানগ্লাসে ঢাকা। হাস্যজ্জল পরি হাত তুলে স্যালুট জানাচ্ছিলেন তার ভক্তজনদের, যা ছিলো দেখার মতো মনমুগ্ধকর দৃশ্য।
পরিমনির সেই সেলিব্রেশনের সময় লক্ষ্য করা যায় যে তার হাতের তালুতে লেখা, ‘Don’t ❤️❤️❤️me Bitch.’ মেহেদীতে আঁকা পরির হাতের এই নক্সাবার্তাটি সকলের মনে রহস্যময় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কাকে চপেটাঘাত করলো নিজহাতে বার্তা লিখে!? একথা বলাই বাহুল্য যে পরিমনি নিশ্চয়ই কাউকে না কাউকে উদ্দেশ্য করেই এটি লিখেছেন।
‘এ নিয়ে বিতর্কের কিছু দেখিনা’ বলে অনেক সচেতনই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। আবার অনেকে এর নানা ব্যাখ্যা করেই যাচ্ছেন।
বোটক্লাবে লাঞ্চিত হবার পর পরিমনি একেএকে তার সব প্রিয়জদের কাছেই সাহায্য চেয়েছিলেন, এমনটাই সে লাইভে জানিয়েছেন কিন্তু কোনো ফয়দা না পেয়ে অগত্যা বিদূষী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আশ্রয়ের লক্ষ্যে ছিলো তার লাইভে যাওয়া।
পরিমনি গিয়েছিলেন থানা পুলিশের কাছে, গিয়েছিলেন ডিবি অফিসে হারুন সাহেবের কাছে। অত্যন্ত কাছের মানুষ (যেহেতু তুমি ও ভাই বলে সম্বোধন করেন) বেনজীর আহমেদ সাহেবকেও জানিয়েছেন কিন্তু কোনো কিছুই কোনো কাজে আসে নি তার। উল্লেখ্য যে এই ঘটনা প্রবাহে পরির সবচেয়ে কাছের মানুষ চয়নিকা চৌধুরীকেও অজানা কারণে ধরে নিয়ে গিয়ে(ক্ষণিকের জন্য) আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সত্যি বলতে ফেঁসে যাবার পর পরিমনির সবচেয়ে কাছের কাউকেই তার কাজে আসতে দেখেনি সে। অথচ সে এরেষ্ট হবার পর তার পক্ষে যারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাদের সবাইকে তার ভক্ত বা শুভাকাঙ্ক্ষী বললেও দুরের মানুষ বলতেই হবে।
কেউই ভুলে যায়নি যে পরীমনিকে গ্রেফতারের পর সংবদ্ধদের হাত থেকে তাকে রক্ষার আবেদন জানিয়ে প্রথম কলম ধরেছিলেন বৃটেন প্রবাসী দেশের প্রখ্যাত লেখক, সাংবাদিক, কলামিষ্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী, তাঁর সাথে সমর্থন করেন দেশের আরো অনেক বুদ্ধিজীবীসহ বিরাট এক গোষ্ঠী। সবাই পরীমনির জামিন ও ন্যায় বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। এরই ফসল পরীমনির এই জামিন বলে সবার মতামত।
সে যেন ভবিষ্যতে কারো খেলার বস্তুতে পরিণত না হয় সে কামনাই করেন তার অগনিত ভক্তজন।
ফটোসাংবাদিক ওমর ফারুক বলেন, আমি পরীমনির ভক্ত বা ফ্যান না তবে পরীমনি যেন অন্যায়-অবিচার থেকে ন্যায় ও সুবিচার পায় সেটাই আমার মনেপ্রাণে প্রত্যাশা।
রক্তের স্রোতধারায় সুরের যাদু নিয়ে জন্ম নেয়া কল্লোল আলী বাবু অধুনায় এসএ টিভির অন্যতম কর্ণধারের ভূমিকায় আছেন। এবিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আসলে পরিটাই একটা থিমলেস ড্রামা। পরি চরিত্রটা পৃথিবীতে নতুন কিছু নয়। একটি ফলকে তুমি বেশী টেপাটেপি করে এখন পঁচা বলছো…, কাল্পনিক পরিদের দুটোডানা থাকে যাতে ভর করে তারা কল্পনার আকাশে উড়ে বেড়ায় আর বাস্তব জীবনের পরিদের কল্পলোকে ভাসমান হতে লাগে খাঁদ আর সীসা। আমার কাছে পরি এ্যপিসিওডটা যেমন ডেম পুয়োর আইটেম মনে হয় …গান! বিনাভজন বৃথাপ্রেম করে যথাতথা। ভক্তি চাই, ভক্তি বিনা জীবের মুক্তি নাই। আর নক্সাবার্তাটি সে পরিমেকারদেরই ছুঁড়ে দিয়েছে সাথে ভস্মিত সমাজ লজ্জিত সমাজের পুরোহিতদের।
