নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশে “জিয়াউর রহমানের কবরে লাশ আছে কি নেই, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করেছে কি করেনি” প্রমাণ চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দেয়ার চ্যালেঞ্জ পর্যন্ত ছুড়ে দিয়েছেন।।
খুব সহজ প্রশ্ন এবং এর জবাব, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ না করলে সেক্টর কমান্ডার কিভাবে হলো? বীরউত্তম খেতাবই বা পেলো কিভাবে? কে দিলো তাকে এই খেতাব?
যারা সৃষ্টি করছে এসব অবান্তর বিতর্ক, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা কি ছিলো?
খেতাব গুলি তো জানি বঙ্গবন্ধুই দিয়েছিলেন তাদের, এই সমস্ত কথাবার্তায় কি তারা বঙ্গবন্ধুর কর্মকান্ডকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছেনা?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন মন্তব্যে তো এমন প্রশ্নও উঠতে পারে “শেখ মুজিব ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছেন ঠিকই, যুদ্ধের ময়দানে সে যায়নি, বঙ্গবন্ধু উপাদি পেয়েছিলেন যদিও কাউকে তিনি বা তাকে কেউ বন্ধু বলে ডাক দেয়নি অথবা তিনি জাতির পিতা হয়েছেন ঠিকই কিন্তু জাতিকে তো আর তিনি জন্ম দেননি।
এই সকল অবান্তর প্রশ্ন এবং বিতর্ক জাতিকে বিভ্রান্তই করতে পারবে শুধু কোনো মঙ্গল দিতে পারবেনা, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অপরাজনীতির ধারক বাহক যারা তারা নিজেরাই নিজেদের কবর রচনা করেন, অতিরিক্ত বাড়াবাড়িই হয় সেই কবর রচনার পাথেয়।
জিয়াউর রহমান যদি বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে জড়িত থাকে, সেই অপরাধের বিচার হবে সেই অপরাধের ধারা মতে এর সাথে যুদ্ধের ময়দানে গুলি ছোড়ার সম্পর্ক কি?
তাছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার তো হয়েছে, তখন কেনো তাকে সেই মামলার আসামী করা হয়নি? এক মামলার বিচার দুইবার হয় এমন নজির পৃথিবীর কোথাও আছে বলেও জানা নেই, তারা কি নতুন নজির স্থাপন করতে চাইছেন?
অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির ফল ভালো হয়না কখনো, সরকারি দল আওয়ামিলীগের আমলা কামলা নেতানেত্রীদের হাতে কাজ নেই কোনো সেটা বোঝা যাচ্ছে, কাজ থাকলে এসব না করে সেটাই করতো।
বিশ্বজুড়ে চলছে করোনাকাল, দেশে চিকিৎসার অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ, মানুষের কাজকর্ম নেই, ব্যবসাবানিজ্য মন্দা, আর তারা ব্যস্ত আছে অবান্তর তালবাহানা নিয়ে।
যদি মূল উদ্দেশ্য এটাই হয় জিয়াউর রহমানের কবর এখান থেকে সরানো, সেইক্ষেত্রে যুক্তি এটাই যথেষ্ট “সংসদ ভবন এলাকায় কারো কবর থাকতে পারবেনা”।
আর এই যুক্তি প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সংসদ ভবন এলাকায় যতো কবর আছে সব সরাতে হবে, এতে এতো তালবাহানার কি আছে? নিয়ম তো নিয়মই।।
নিয়ম তখনই অনিয়ম হয়, যদি সেখানে অসৎ উদ্দেশ্য থাকে, অযথা নানান বিষয় যুক্ত করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অধিকার কারো নেই।
,
শিহাবী
সুত্র : https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=113868914338903&id=100071473857028
